নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদ প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় শ্রীমঙ্গলে সাংবাদিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দৈনিক খোলা কাগজ-এর মৌলভীবাজার জেলার নিজস্ব প্রতিবেদক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট মো. এহসানুল হক (এহসান বিন মুজাহির)-এর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলতাফুর রহমান ওরফে নাজমুল হাসান।
গত ৬ এপ্রিল মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার) আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত আগামী ১৪ মে সংশ্লিষ্টদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, গত বছরের ২৬ অক্টোবর দৈনিক খোলা কাগজ-এ “আলতাফুরের কাছে জিম্মি এলাকাবাসী” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে আশিদ্রোন ইউনিয়নের চার গ্রামের বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছিল বলে দাবি প্রতিবেদকের।
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর আলতাফুর রহমান ওই প্রতিবেদকের কাছে তার পক্ষে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন। এতে সাড়া না পেয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেন এবং পরবর্তীতে মামলা দায়ের করেন।
সর্বশেষ গত ৪ এপ্রিল শহরের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম লিয়াকতকে প্রধান আসামি করে এবং সাংবাদিক এহসানুল হককে দ্বিতীয় আসামি করে আরও ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহল একে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এ ধরনের মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করতে পারে।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল ফজল আব্দুল হাই ডন ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত রবিন বলেন, “সংবাদ প্রকাশের ছয় মাস পর হীন উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত সাংবাদিক এহসানুল হক বলেন, “তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের যথাযথ ডকুমেন্টেশন রয়েছে। প্রয়োজনে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, আলতাফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এবং এসব বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে আলতাফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী বলেন, “তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। সংবাদের জেরে মামলা দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত।”
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং ঘটনাটিকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি